জমি কিনার সময় দলিল ও প্রয়োজনীয়
কাগজ ভাল করে পরীক্ষা করে নিন।
জমির দলিলে অনেক সংক্ষিপ্ত রুপে
অনেক শব্দ ব্যবহার করা হয়, জমির
দলিল বুঝতে অবশ্যই সেগুলো জানতে
হবে। নাহলে কেউ আপনাকে উল্টা
পালটা বুঝিয়ে ঠকাতে পারবেনা।
আসুন জেনে নেই জমির দলিলে বহুল
ব্যবহৃত কিছু শব্দের পূর্ণরূপঃ
সাং = সাকিন, সাকিম। সাকিন বা
সাকিম শব্দের অর্থ ঠিকানা,
বাসস্থান।
গং = অন্যরা, সমূহ। অমুক [ব্যক্তিনাম]
ও অন্যান্য বা তার সহযোগীগণ।
দং = দরুন, বাবদ, দখল।
মোং = মোকাম। এর অর্থ আবাস,
বাসস্থান হলেও মূলত বাণিজ্য স্থান।
জঃ = জমা। সাধারণ অর্থে ‘জমা’
বলতে সঞ্চিত, রাশীকৃত।
নং = নম্বর বা সংখ্যা অর্থে বোঝানো
হয়।
পঃ = পঞ্চম বা পাঁচের স্থানীয় ভাষ্য।
হিঃ = হিসাব শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ
চৌঃ = চৌহদ্দি। চৌহদ্দি শব্দের অর্থ
হচ্ছে চারধারের সীমানা।
তঃ/তপঃ = তফসিল, তহশিল।
পোঃ = পোস্ট অফিস বা ডাকঘর
বোঝানো হয়।
কিঃ = কিস্তি। কিন্তু শব্দটি দফা,
বার, ক্ষেপ এই অর্থেও ব্যবহূত হয়।
মাং/ মাঃ = মারফত। মারফত মানে
মাধ্যম, অর্থাৎ যার হাত দিয়ে বা
মাধ্যমে আদান-প্রদান করা হয়।
কিত্তা/ কিতা = আববি ‘ক্বত্বহ’
শব্দজাত। এর অর্থ অংশ, জমির ভাগ,
পদ্ধতি।
ছানি = আরবি শব্দ, অর্থ দ্বিতীয়বার।
পুনর্বিবেচনার প্রার্থনা। যেমন: ছানি
মামলা।
নিম = ফারসি শব্দ। এর অর্থ অল্প,
অর্ধেক, অধস্তন বা অধীন ইত্যাদি।
ছোলেনামা = মীমাংসা, আপোষ/
আপস। ছোলেনামা মানে আপস-
মীমাংসাপত্র।
মহঃ = মহকুমা। ব্রিটিশ আমলে জেলার
একটি প্রশাসনিক অংশকেই মহকুমা
বলা হতো।
মুসাবিদা = খসড়া তৈরি করা।
মুসাবিদাকারক মানে যিনি দলিল
লেখেন।
তামাদি = ফারসি শব্দ। এর অর্থ
নির্ধারিত সময়সীমা।
বিতং = বিস্তারিত বিবরণ, কৈফিয়ত,
বৃত্তাত অর্থে ব্যবহূত হয়।
সহঃ = সহকারী, যিনি কাজে
সহযোগিতা করেন।
সুদিখত = একশ্রেণীর বন্ধকী দলিল।
এজমালি/ইজমালি = যৌথ, সংযুক্ত,
বহুজনের একত্রে। যেমন: এজমালি
সম্পত্তি বলতে যৌথ মালিকাধীন
সম্পত্তিকে বোঝায়।
তমঃ = তমসুক। আরবি শব্দজাত, যার
অর্থ দলিল, ঋণ-স্বীকারপত্র বা খত।
অর্থাৎ কর্জ গ্রহীতা যে লিখিত পত্র,
বিশেষত সরকারি স্ট্যাম্প বা
কাগজমূলে কর্জদাতার কাছ থেকে
টাকা ধার নেয়। বন্ধকী তমসুক মানে
হলো বন্ধকনামা বা বন্ধকী বা বন্ধকী
খত।
হলফ = সত্য বলার জন্য যে শপথ করা হয়।
হলফকারী মানে যিনি সত্যায়ন করেন।
খারিজঃ = সাধারণ অর্থে বাতিল
করা হয়েছে এমন বোঝায়। ভূমি আইনে
একজনের নাম থেকে অন্যজনের নামে
জমির মালিকানা পরিবর্তন করে
নেওয়াকে বোঝায়।
মৌরাশিঃ পুরুষানুক্রমে কোনো ভূমি
ভোগ দখল করাকে মৌরাশি বলে।
বায়া (Vender): বিক্রেতা, বিক্রেতার
সম্পাদিত দলিলকে বলে বায়া দলিল।
তফসিলঃ কোনা জমি যে মৌজায়
অবস্থিত সে মৌজার নাম, জে. এল.
নং, খতিয়ান নং, দাগ নং, জমির
শ্রেণী, পরিমাণ, জমির চৌহদ্দি
বর্ণনা ইত্যাদি পরিচিতি সম্বলিত
বিবরণকে ঐ জমির তফসিল বলে।
মিনাহ (Deduction): কম, কমতি, জমি
সিকস্তি হলে তার কর আদায় স্থগিত
করাকে মিনাহ বলে।
খতিয়ানঃ খতিয়ান হলো দখল স্বত্বের
প্রামাণ্য দলিল। এক বা একাধিক
দাগের সম্পূর্ণ বা আংশিক ভূমি নিয়ে
এক বা একাধিক ব্যক্তির নামে সরকার
বা রাজস্ব অফিসার কর্তৃক যে ভূমি
স্বত্ব প্রস্তুত করা হয় তাকে খতিয়ান
বলে। প্রতি খতিয়ানের একটি পৃথক
পরিচিতি নম্বর থাকে। খতিয়ানকে
“রেকর্ড অব রাইটস” বা “স্বত্বলিপি”
বলা হয়। খতিয়ান হচ্ছে নিখুঁত
মালিকানা স্বত্ব ও দখলী স্বত্বের
প্রমাণ্য দলিল। খতিয়ানে তৌজী
নম্বর, জে. এল. নম্বর, স্বত্বের বিবরণ,
মালিকের নাম, পিতার নাম, ঠিকানা
থাকে।খতিয়ানের অপর পৃষ্ঠায় দাগ
নম্বর, প্রত্যেক দাগের উত্তর সীমা
(উত্তর দাগ), ভূমির শ্রেণী দখলকারের
নাম, ভূমির পরিমাণ, হিস্যা, হিস্যা
মতে পরিমাণ লেখা থাকে। উপযুক্ত
আদালত কর্তৃক ভুল প্রমাণিত না হওয়া
পর্যন্ত খতিয়ান নির্ভূল হিসাবে গণ্য
হতে থাকে।
জমির দলিলে বহুল ব্যবহৃত কিছু
শব্দের পূর্ণরূপ
Reviewed by Mokhsedur rahman
on
4:31 PM
Rating:
Subscribe to:
Post Comments
(
Atom
)
No comments: